রাজশাহী কলেজের ফুলার হোস্টেলের শত বর্ষ পূর্তি

রাজশাহী কলেজ বার্তা | | March 28, 2018 at 10:43 pm

রাজশাহী কলেজের ফুলার হোস্টেলের শত বর্ষ পূর্তি হয়েছে। বুধবার বিদসবটি উপলক্ষে কলেজ মিলনায়তনে ‘শিক্ষা ও সমাজ গঠনে অধ্যাত্ম দিশারী হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এর অবদান’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. রফিকুল আলম বেগ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজশাহীতে শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছেন হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা। তিনি ছিলেন বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী। ৯২ বছরের জীবনে তিনি শুধু একটি বিষয় নিয়েই থাকেননি। আহ্ছানউল্লা ছিলেন একাধারে শিক্ষক, সাধক, প্রশাসক, লেখক ও সমাজসেবক। তার মতো মানুষের সংখ্যা দেশে খুব কম। তাই তার আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার চিন্তা চেতনায় ছিল এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং আপামর জনতাকে শিক্ষায় শিক্ষিত করা। বিশেষ করে মুসলমান সমাজকে এগিয়ে নেয়ার চিন্তা তার প্রতিটি কাজের মধ্যে ফুটে উঠেছে। তিনি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আমরা বিষয়গুলো জানি।

তিনি বলেন, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা রাজশাহীতে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে গেছেন। এখন আমরা রাজশাহীকে ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে চিনি। তার আদর্শকে আজ আমরা অনুসরণ করে যাচ্ছি। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার যে অবদান তা নিয়ে রাজশাহীতে গবেষণা হওয়া উচিত ছিল। আমার মনে হয়, এটা শুরু হওয়া উচিত। শুধু তাই নয়, তার আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেও কাজ করতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান। তিনি বলেন, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা প্রতিষ্ঠিত ফুলার ভবনের সামনে একটি ফলক বসানো হবে। সেখানে আহ্ছানউল্লার নাম থাকবে। তাকে নিয়ে প্রতিবছর একটা সেমিনারও আয়োজন করা হবে। কেননা, একটি-দুটি সেমিনার দিয়ে এই মহৎ ব্যক্তির সম্পর্কে এখনকার শিক্ষার্থীরা বেশি কিছু জানতে পারবে না।

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি ধর্ম, বিজ্ঞান, দর্শনকে সমন্বয় করে রাজশাহীতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। তিনি সমাজসংষ্কারক ও সুফিসাধকও ছিলেন। বৃটিশ সরকার তাকে খানবাহাদুর উপাধি দিয়েছিল। তার অবদান রাজশাহীর মানুষ কখনো ভুলবে না। তার আদর্শ নিয়ে রাজশাহী কলেজ থেকেই চর্চা শুরু হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন রুয়েটের স্কুল অব লিবারেল আর্টসের ডিন প্রফেসর ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী ও নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি মুহাম্মদ সেলিমউল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহীর শাহমখদুম কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. তসিকুল ইসলাম রাজা।শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আল ফারুক চৌধুরী ও রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. নূরজাহান বেগম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. একরাম হোসেন।  খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের পরিচালক এএফএম এনামুল হক, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. কাজী আলী আজম ও রাজশাহী লেখক পরিষদের সভাপতি রুহুল আমিন প্রমানিক আলোচনায় অংশ নেন।

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের প্রাবন্ধিক ও গবেষক মনিরুল ইসলাম সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন। এর আগে সকালে ফুলার ভবনের সামনে বেলুন উড়িয়ে শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। সাতক্ষীরার নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন আয়োজনে সহযোগিতা করে।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of