‘দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে মুক্তিযোদ্ধাদের খাইয়েছি’

0
31

১৯৭১ সালে দেশ তখন পাকহানাদার পশ্চিম পাকিস্তানির কবজ্বায়। সেই সময় সকল ক্ষেত্রেই পূর্ব-পাকিস্তানিরা বৈষম্যের স্বীকার হতো। এক পর্যায়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের অধিকার আদায়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এ দেশের মানুষদের ভাগ্য বদলাতে বাংলার দামাল ছেলেরা মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আর এই মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার রান্না করে খাইয়েছি। এভাবেই বলছিলেন রাজশাহী কলেজ ১৯৬৮ সালের এইচএসসি ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্রী আশরাফউন নেসা আহমেদ (৭০)। তিনি বলেন, সেই সময় রাতের আধাঁরে নিজ হাতে রান্না করে কাজী হাটা, ডাক বাংলো যা বর্তমানে মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এসব জায়গাতেও মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ করেছি।

আমরা দেশের মানুষদের অধিকার আদায়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। মৃত্যুর ভয় করি নি। জীবনের মায়াত্যাগ করে দেশকে ভালোবেসে মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতাও করেছি। তাদেরকে সহযোগিতা করতে পেরে জীনটাকে এখন স্বার্থক মনে করছি। আর এখন মানুষ হয়ে উঠেছে বর্বর।

নীতি- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে দিনে দিনেই। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার সবার আছে। যে যার মত করে প্রকাশ করতে পারে। তবে স্বাধীনতাবিরোধী কোনো কথা নই। সমস্ত অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে হবে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী কলেজ এইচএসসি পূর্ণমিলনীতে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। কলেজ মাঠে প্রবেশ করেই পুরো কলেজ যেন তাঁর অচেনা মনে হয়। রিকশায় করে আসছিলেন তিনি। হঠাৎ ডাক দিলেন এই তোমরা শুনতে পাচ্ছো? পরে সালামদিয়ে এগিয়ে যেতেই বললেন আমাকে একটু সাহায্য করবে? কথা শুনে নিয়ে যাওয়া হলো ৩য় বিজ্ঞান ভবনের ১০৩ নং কক্ষে। পরে পূর্ণমিলনীর বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে ফিরে আসা হলো হাজী মোহাম্মদ মহসীন ভবনের ১০৩ নং কক্ষে।

এক পর্যায়ে আলাপচারিতায় কলেজের স্মৃতি চারণ করেন তিনি। সাবেক শিক্ষার্থী আশরাফউন নেসা ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ডুবাচল গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে। কালক্রমে রাজশাহীতে আত্নীয়র বাসায় থেকে পড়া-শুনা করেন। ১৯৬৬ সালে সরকারি পিএন বালিকা বিদ্যালয় থেকে ম্যাধ্যমিকে প্রথম শ্রেণি এবং ১৯৬৮ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

পরে ১৯৭২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অর্নাস- মার্স্টাস কমপ্লিট করেন। শিক্ষা জীবন থেকেই তিনি ছিলেন নেতৃত্বের অধিকারি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মুন্নুজান হলের ছাত্র ইউনিয়নে সাংগঠনিক পদে ছিলেন। পেশায় তিনি ছিলেন ইউএসএআইডির মনিটরিং এ্যন্ড ইভোলিউশন স্পেশালিষ্ট।

১৯৮৩ সালে বিয়ে হয় সহ-কর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম আহম্মেদের সাথে। ১২ বছর দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান নেই তাদের। ১৯৯৪ সালে স্বামী নিজাম আহম্মেদের মৃত্যু হয়। পরে আর ২য় বিয়েও করেন নি তিনি। সংগ্রাম করেই চলছে আশরাফ উন নেসার জীবন।

মুক্তিযোদ্ধা নিজাম আহম্মেদ ঢাকার ২ নং সেক্টরে নরসিংদীতে যুদ্ধ করেছেন বলে জানান তিনি। মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বা সনদ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ইচ্ছে করেই মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বা সনদ নেই নি। দেশে গরিব অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা আছে। তাদের সরকার সহায়তা করছেন ভবিষ্যতে আরো যেন করতে পারেন। এটাই আমি প্রত্যাশা করি।

বর্তমানে তিনি থাকেন ঢাকার উত্তরার ৫নং সেক্টরে। কলেজের এই পূর্ণমিলনীতে যোগ দিতেই সূদর ঢাকা থেকে আসেন তিনি। উঠেছেন রাজশাহীর কাজীহাটা এক ভাইয়ের বাসায়। রাজশাহী কলেজ এইচএসসি পূর্ণমিলনীতে এসে আপানার কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার অনেক ভালো লাগছে।

কলেজে আমাদের ব্যাচের শুধু এক বান্ধবীর দেখা পেয়েছি। তার সাথে অনেক মজার সময় কাটিয়েছি। সত্যি কলেজে এসে শৈশব আড়মোড়া দিয়ে উঠেছে। এতো সুন্দর আয়োজন করার জন্য কলেজ প্রশাসনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of