রাজশাহী কলেজের সৌন্দর্যে মুগ্ধ প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

1
107

রাজশাহী কলেজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্তমান সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা যেনো নতুন রূপে দেখছেন দেশ সেরা এই প্রাচীন বিদ্যা পীঠকে। শুক্র ও শনি এই দুইদিন ব্যাপী রাজশাহী কলেজের এইচএসসি অ্যালামনাইয়ে মিলিত হয়েছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাদের পদচারণায় মুখরিত কলেজ ক্যাম্পাস। এই মিলন মেলায় আড্ডা-গান-গল্পে মেতেছেন প্রাক্তনরা।

দেশের অন্যান্য কলেজ থেকে রাজশাহী কলেজের ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ অন্যরকম। তারুণ্য-সজীবতায় প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর এই ক্যাম্পাস। শীতের আগমন উপলক্ষে রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে বাহারি রকমের সব ফুলগাছ। পাকা করা হয়েছে করা হয়েছে কলেজের প্রতিটি রাস্তা। যা আগে ছিলো না এমনটাই বর্ণনা করছিলেন কলেজের এইচএসচি’র ৮৪ তম ব্যাচের নাজমুল হুদা, সোবহান সেতু, সন্ধী, মুন্নি, ডানা, লিটা ও সীমা।

কথা হয় কলেজের এইচএসসি’র ৬০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নিমাই চন্দ্র সরকারের সাথে। তিনি যখন পড়েছেন তখনকার সময়ের ক্যাম্পাস কেমন ছিলো আর বর্তমানে কেমন দেখছেন এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, তখনকার আর এখনকার ক্যাম্পাসের মধ্যে দিন রাতের প্রার্থক্য। তখনকার কোন কিছুই এখন আর নেই। সে সময়ের কাউকে যদি চোখ বেঁধে প্রশাসন ভবন পার করে দেয়া হয় তবে চিন্তেই পারবেনা। এই রকম পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান তিনি।

এইচএসসি অ্যালামনাই উপলক্ষে ৩৪ বছর পর রাজশাহী কলেজে এসেছেন ৮৪তম ব্যাচের জলি। তিনি বলেন, এখন আমি আমার সেই আঠারো বছর বয়স ফিল করছি। বর্তমান আমার বসয় ৫৮ তবুও এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে আমার বয়স আঠারো বছর।

একই ব্যাচের শিক্ষাথী জলি, মাহাবুবা ইয়াসমিন আনঞ্জু, শিলা, নাসরিন সাথী, নকিবুল ইসলাম সেল্টু, বাবর। তারা জানান, আমাদের চোখে যে নেচারটা আছে তা এখনো অনবদ্য, ওই ভালো লাগা এখনো আছে। এখন যে পরিবেশটা আমরা দেখতে পাচ্ছি রূপকথার মতো লাগছে। কিন্তু আমাদের ভালো লাগা আগে যেমেন ছিলো এখন ঠিক তেমনি আছে। ভালোবাসাটা কমেনি। আগে যে যৌবন ছিলো এখনো আমাদের সেই যৌবন আছে। যা আমরা এই মিলন মেলায় ফিরে পেয়েছি।

 এই ব্যাচের আনঞ্জু কলেজের বর্তমান শহীদ এএইচএম খায়রুজ্জামান ভবন দেখিয়ে বলেন ওই খানে তখন একতলার ভাঙাচুরা সাধারণ ইতিহাস ভবন ছিলো। ওই ভবনে আমরা ছাগলের লাদি পরিষ্কার করে ক্লাস করতে আসতাম। তখন প্রাকৃতির মাটির গন্ধ পেতাম আর এখন ইট-পাথর ভাসে। তবে ভালোবাসা আগের মতোই আছে। কলেজের এই সৌন্দর্য্যের জন্য তারা ধন্যবাদ জানান বর্তমান কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানকে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে এইচএসসি অ্যালামনাইয়ে এসেছেন খন্দকার জিয়া। তিনি এইচএসসি’র ৭৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী। প্রায় ৪২ বছর পর বন্ধু ডা. মীর মর্তুজা রেজা খানম এর সাথে দেখা হয়ে গল্প আর আড্ডায় মেতেছেন তিনি। এই ব্যাচের শিক্ষার্থী এ্যাড. ফজলে করিম, খন্দকার জিয়া হাসান ও নাফিজা বেগম।

তাদের মধ্যে রাবির ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর সুলতানউল ইসলাম বলেন, এতোদিন পর বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে ওই তারুণ্যের মন নিয়ে, সেই ষোল-আঠারো বছরের মন নিয়ে। এতোদিনপর পর যদি বন্ধুকে দেখি আপনজনকে তাহলে কতো আনন্দ লাগে। আমাদের ভিতরেও সেই আনন্দ এখন। এই রাজশাহী কলেজ আমাদের মানুষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কলেজকেও আমাদের দেখা দরকার।

কারণ ভবিষ্যতে যেভাবে উন্নতি হচ্ছে সারা পৃথিবীতে, সেইভাবে আমরা যাদি আমাদের কলেজকে উন্নত না করতে পারি, বিশ্ব দরবারের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারি। তাহলে আমাদের রাজশাহী কলেজের যে সুনাম রয়েছে তা ক্ষুণ্য হবে। তাতে আমাদের আধুনিক জনশক্তি তৈরি হবে না, দেশ কিন্ত এমনি পিছিয়ে পড়বে। এর ফলে আজকের যে অ্যালামনাই ফরম করবে যা এগিয়ে নিবে কলেজকে।

তিনি আরো বলেন, কলেজে যদি এখন উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট প্ল্যান হয়, আধুনিক করার জন্য, বর্তমান ছেলে-মেয়ের সুযোগ তৈরি করার জন তাহলে আমরা অর্থ ও বুদ্ধি দিয়ে সেই সহয়াতা টুকু করতে চাই। এবং দরকার হলে শ্রমও দিবো। তাহলে আমাদের কলেজের এই সুনাম ওখানেই পড়ে থাকলোনা আরো উন্নত বিশ্বের সমান তালে চলে গেলো। এর থেকে আমাদের উন্নত জনশক্তি পওয়া যাবে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে সহায়ক হবে এবং সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

কলেজের সৌন্দর্য্য সম্পর্কে তিনি বলেন, সৌন্দর্য্যরে বিষয়টা তো আপেক্ষিক। তখনকার আমরাও একটা জামা পড়তাম, জামা পাঁচদিন পড়ার পর শুক্রবার ধুঁয়ে-শুকিয়ে আবার পড়তার সেটাই ছিলো সৌন্দর্য্য। কিন্তু এখন মনে হয় প্রতিদিন সকাল বিকেল কাপড় পাল্টাতে পারতাম এবং পাল্টাচ্ছিও।

এখন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তখন যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ছিলো হয়তো বা সেটিও এখানে কম হয়ে গেছে কিন্তু বাস্তবে অতীত ছিচল্লিশ বছর ঘেটে বলছি এই মুহুর্তে এই কলেজের যে সার্বিক পরিবেশ তা অতান্ত্য উন্নতমানের এবং যে কোন উন্নত বিশ্বের একটি কলেজের চত্ত্বর যা হওয়া দরকার তার খুব কাছাকাছি গেছে। এর সঙ্গে আমাদের আধুনিক কিছু প্রযুক্তি যুক্ত হবে।

আমারা আগে যে বিল্ডিং দেখেছি সেগুলো ভেঙ্গে গেছে। যেমন ক্যামেস্টি বিল্ডিং পুরোন সেটি ভেঙ্গে পড়ে গেছে। ওইখানে নতুন বিল্ডিং হয়েছে। যা দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবন নামে পরিচিতি পেয়েছে। ক্লাস রুমগুলোর আউটলুক পরিবর্তন হয়েছে, দেয়ালগুলো খুব সুন্দর করা হয়েছে, চত্ত্বরগুলো সুন্দর করা হয়েছে। এখন ক্লাসরুমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রাকৃতির অপররূপ সৌন্দর্য্যপূর্ণ এই কলেজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য্য ও সুনাম ধরে রাখার জন্য কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা: আব্দুল খালেক এর প্রতি দৃষ্টিআর্কষণ করেছেন প্রাক্তন এই শিক্ষার্থীরা।

1
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
1 Comment authors
প্রামাণিক জালাল উদ্দিন Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
প্রামাণিক জালাল উদ্দিন
Guest

দুই দশক আগে রাজশাহী কলেজের ছাত্র ছিলাম। আহা! এখন আবারো যদি ছাত্র হতে পারতাম, তবে খুব ভালো লাগতো। শুভকামনা রইলো।