রাজশাহী কলেজ প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

রাজশাহী কলেজ বার্তা | | May 10, 2017 at 6:56 pm

গত ১০ মে,২০১৭ তারিখে ক্যাম্পাস পাতায় প্রকাশিত রাজশাহী কলেজ এর ফিচার। রাজশাহী কলেজ ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে আজও সমুন্নত। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে দেশের সেরা কলেজের স্থান করে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটি। খ্যাতি লাভ করেছে দেশের মডেল কলেজ হিসেবে।

ঢাকা কলেজ ও চট্টগ্রাম কলেজের পর রাজশাহী কলেজ দেশের তৃতীয় প্রাচীনতম কলেজ। ১৮৭৩ সালে শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী শহরে এ কলেজটি গড়ে ওঠে। এ কলেজ থেকেই বাংলাদেশে সর্ব প্রথম মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত। রাজশাহী কলেজ দেশের একমাত্র কলেজ যা ২০১১ সালে আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি বিস্তারে তাদের প্রায় ৯১টি ক্লাস রুমকে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নিজস্ব অর্থায়নে শতভাগ মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম হিসেবে গড়ে তোলে। এমনকি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৪১ জন শিক্ষকে আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের জন্য কলেজ থেকে একটি করে ল্যাপটপ প্রদান করা হয়।

এ কলেজের শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র ভালো রেজাল্ট করেই ক্ষান্ত হননি, ২০১৫ সালে এ কলেজ থেকে বুয়েটে ৯৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এ বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ লাভ করে।

রাজশাহী কলেজ জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে প্রথম হয়। এমনকি ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে যেখানে দেশের সকল পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে এর বাইরে একমাত্র রাজশাহী কলেজ এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এ বছর ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনের ২৪টি পুরস্কারের মধ্যে ৫টি পুরস্কার লাভ করে রাজশাহী কলেজ। পড়াশোনার পাশাপাশি এ কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য ২৬টি সক্রিয় সংগঠন পরিচালনা করে।

রাজশাহী কলেজের প্রসিদ্ধির আরেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থাগার। এখানে অতি পুরাতন মূল্যবান ও দুর্লভ বই, গেজেট, প্রাচীন পাণ্ডুলিপি যাতে অনেক পুঁথিতে সমৃদ্ধ। বর্তমানে এ কলেজের লাইব্রেরিতে প্রায় ৭৭,৯৪৯টি বই রয়েছে।

কলেজ সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে এ কলেজের ছাত্রী সামিয়া শবনম সমাজ কর্মে মাস্টার্স অধ্যয়নরত তিনি জানান, আমি সুনাম ধন্য এ কলেজে পড়তে পেরে সত্যিই গর্বিত। তবে আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক, অনার্স ও মাস্টার্স একসাথে থাকায় শ্রেণি কক্ষের কিছুটা সংকট রয়েছে। আমাদের ছাত্রী হলের সংখ্যাও বাড়ানো দরকার। এছাড়া আমাদের কলেজ বাসগুলো ভাড়ায়চালিত তাই আমাদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

মোফাজ্জেল হোসেন গণিতে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি জানান, আমাদের বাসের সংখ্যা আরো বাড়ানো দরকার। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আমাদের কলেজের নকল পরিচয়পত্র দেখিয়ে আমাদের বাস ব্যবহার করে। এতে আমাদের কলেজের অনেক শিক্ষার্থী বাস ব্যবহার করতে পারে না। আমাদের কিছু কিছু ছাত্রাবাস ব্যবহার অনুপোযোগী, যা সংস্কারের প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, আমাদের কলেজের শিক্ষার পরিবেশের যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে তার নায়ক আমাদের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান স্যার।

মৌমিতা চায়না অনার্স মনোবিজ্ঞানের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তিনি জানান, এখানের লেখাপড়ার পরিবেশ খুবই চমত্কার। এখানকার প্রতিটি ক্লাস রুমই মাল্টিমিডিয়ার আওতাভুক্ত। আমাদের নিয়মিত ক্লাস হয়। আমাদের শিক্ষকরা খুরই আন্তরিক। তবে দূরের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে আমাদের বাসের পরিমাণ আরো বাড়ানো দরকার।

মীম ওবাইদুল্লাহ সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি জানান, রাজশাহী কলেজ দেশের মডেল কলেজ। দেশের অন্যান্য কলেজ আমাদের অনুসরণ করে এ জন্য গর্ববোধ করি। আমাদের বর্তমান অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান স্যারের প্রচেষ্টায় শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ ও সেরা কলেজ হতে পেরেছে। আমাদের হলের আসন বৃদ্ধি ও পুরাতন হলগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান জানান, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন করতে হলে রাজশাহী কলেজের উন্নয়ন ছাড়া সম্ভব নয়। উন্নয়ন বলতে শুধু কলেজের ভৌত কাঠামোগত উন্নয়ন নয়, একাডেমিক উন্নয়ন বলে আমি মনে করি। সে লক্ষ্যে আমি ও আমার শিক্ষকমণ্ডলী মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রম করে যাচ্ছি এবং এ ক্ষেত্রে আমার ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতা ছাড়া তা অসম্ভব। ফলে রাজশাহী কলেজ আজ দেশের মডেল কলেজে  পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.