হবিবুর স্যারের জাদুর কাঠি-কালের কণ্ঠ ক্যাম্পস পাতা

রাজশাহী কলেজ বার্তা | | October 11, 2017 at 4:56 pm

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিলেন তিনি ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট। তারপর এই সরকারি কলেজে অনেক উদ্যোগ নেওয়া শুরু করলেন।

কলেজে পুলিশ ফাঁড়ি করলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ‘কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম’ হলো। তাঁরা যেকোনো আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করেন। তিনি পুরনো ভবনগুলো ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে অবিকল রেখে সংস্কার করলেন।

প্রথম বিজ্ঞান ভবন থেকে ফুলার ভবন, ফুলার ভবন থেকে কলা ভবন—এভাবে ১০টি একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের মধ্যে উন্নয়ন তহবিল থেকে কোটি টাকা খরচ করে সংযোগ সড়ক বানালেন। ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে বিশুদ্ধ পানি খেতে পারে, সে জন্য আট লাখ টাকা খরচ করে ১০০ ফিল্টার ইউনিট বসালেন।

একাডেমিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে ১০০টির বেশি সিসি ক্যামেরা দিলেন। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা আড্ডা দিচ্ছে কি না, বহিরাগতরা আসছে কি না সহজেই দেখা যায়। ২০০ প্রজাতির বিরল গাছে বৈজ্ঞানিক নামসহ নামফলক স্থাপন করলেন যাতে ছেলে-মেয়েরা চিনতে পারে, এগুলোর যত্ন করতে পারে। প্রশাসনিক ভবনের সামনে চার লাখ টাকা খরচ করে বানানো ‘রাজশাহীর চোখ’ মুর্যালটি দেখে যে কেউ এখন রাজশাহীর ইতিহাস জানতে পারবেন।

শুধু কলেজের চেহারাই বদলে দেননি, অধ্যক্ষ, অধ্যাপক মহা. হবিবুর রহমান। ছাত্র-ছাত্রীদের আরো মানসম্পন্ন লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। ৯১টি ক্লাসরুমে এখন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর আছে। বাকিগুলোয়ও এই সুবিধা স্থাপনের কাজ চলছে। পুরো ক্যাম্পাসে ওয়াই-ফাই আছে। ক্লাসরুমগুলোতে ওয়াই-ফাইয়ের স্পিড বেশি। প্রতিটি বিভাগের সেমিনার আছে।

সেখান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বই ইস্যু করতে পারে। বিজ্ঞান অনুষদের প্রতিটি বিভাগের গবেষণাগার আছে। এ ছাড়া লেকচারশিট তৈরি ও প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সব শিক্ষককে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আরো দক্ষ করতে গত বছর কলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ তৈরি করা হয়েছে। ল্যাবের সমন্বয়ক হিসেবে গ্রন্থাগারিক মুহাম্মদ মহিউদ্দিনকে অধ্যক্ষ দায়িত্ব দিয়েছেন।

তিনি বললেন, ‘ল্যাবে সরকার ১৪টি কম্পিউটার দিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ৯টি কম্পিউটার সংযোজন করেছে। অধ্যক্ষের নির্দেশে প্রতিটি বিভাগের প্রতিটি বর্ষের পাঁচজন করে ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে মোট ১১০ জনকে বিনা মূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের জন্য দুজন প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ’

তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা উত্তরবঙ্গে আরো ছড়িয়ে দিতে অধ্যাপক মহা. হবিবুর রহমান ‘ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ‘ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা অনুমতি দিলে বিভাগ দুটি চালু হবে। গ্রন্থাগার নিয়ে গ্রন্থাগারিক বললেন, ‘আমাদের এখানে গেজেট, পাণ্ডুলিপি, জার্নাল, বই মিলিয়ে দুই লাখেরও বেশি সংগ্রহ আছে। আগে কলেজ চলার সময়কাল পর্যন্ত এটি খোলা থাকলেও এখন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ’

হাতে-কলমে গবেষণায়ও পিছিয়ে নেই কলেজটি। সমাজকর্ম বিভাগের প্রধান ও রাজশাহী কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. জুবাইদা আয়েশা সিদ্দীকা জানালেন, ‘আমাদের বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে গবেষণায় আগ্রহী করা হয়। চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের ছাত্র-ছাত্রীদের ফিল্ড ওয়ার্কে নিয়ে যাই। রাজশাহী জেলার তানোর, পুঠিয়া, বাগমারা ও দুর্গাপুর উপজেলায় ছেলে-মেয়েরা ফিল্ড ওয়ার্ক করে।

প্রতি দলে আট-দশজন ছাত্র-ছাত্রী ও দুজন করে শিক্ষক থাকেন। ’ তিনি আরো জানালেন, “কলেজের শিক্ষকদের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য ‘জার্নাল অব সোশ্যাল সায়েন্স’ আছে। ‘বাংলা সাহিত্যিকী’ নামে সাহিত্য পত্রিকা আছে। ভবিষ্যতে সমাজকর্ম বিভাগ থেকেও জার্নাল প্রকাশ করা হবে। ”

অন্য ক্ষেত্রগুলোর মতো সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও সাফল্য রাখছে কলেজ। আছে ২৮টি সংগঠন। সেগুলোর অন্যতম—‘বাঁধন’, ‘বিএনসিসি’, ‘রোভার ডেন’, ‘বিজনেস ক্লাব’, ‘মিরর ডিবেটিং ক্লাব’, ‘রাজশাহী কলেজ ডিবেটিং ক্লাব’, ‘ক্যারিয়ার ক্লাব, ‘ক্রিয়েটিভ ক্লাব’, ‘রেডক্রিসেন্ট’, ‘স্টাটিসটিকস পাইওনিয়ার ক্লাব’, ‘সমাজকর্ম পাইওনিয়ার ক্লাব’, ‘বরেন্দ্র থিয়েটার’, ‘রাজশাহী কলেজ নৃত্যচর্চা কেন্দ্র’, ‘সংগীতচর্চা কেন্দ্র’ ও ‘রাজশাহী কলেজ নাট্যসংসদ’।

হিসাববিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান আশীষ কুমার স্যানাল সব ক্লাবের কার্যক্রম দেখাশোনা করেন। তিনি কয়েকটি ক্লাবের উপদেষ্টাও। তিনি জানালেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় দিবসে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালায়, নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ’

রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মীম ওবাইদুল্লাহ বললেন, ‘অন্য সংগঠনগুলোর মতো আমরাও প্রশাসনের সহায়তায়, অধ্যক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় কার্যক্রম পরিচালনা করি। এ কারণেই এই ক্লাবগুলো সাফল্য পাচ্ছে। ’ কলেজের দুটি বিতর্ক সংগঠন—‘মিরর ডিবেটিং ক্লাব’ ও ‘রাজশাহী কলেজ ডিবেটিং ক্লাব’ মিলে এ বছরের আগস্টে ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা করেছে।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এবার কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে পাঁচটি পুরস্কার জিতেছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহা. হবিবুর রহমান বললেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আমরা পাঠদান করি। ফলে তারা নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের মতো মানবিক গুণাবলি অর্জন করছে। ’ আরো অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

এখন প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বার্ষিক পরিকল্পনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া একাডেমিক ক্যালেন্ডারের বাইরে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির জন্য আলাদা একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও কোর্সের প্ল্যান করা হয়। প্রতিটি বিভাগের আলাদা কোর্স প্ল্যান হয়। সেগুলোতে ইনকোর্স, টিউটরিয়াল ও গ্রুপ প্রেজেন্টেশনের সময়সীমা ও তারিখ দেওয়া থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে বছরে দুটি ইনকোর্স নেওয়ার কথা থাকলেও প্রতি দুই মাস অন্তর মোট ছয়টি ইনকোর্স পরীক্ষা নেওয়া হয়।

পরীক্ষাগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের লিখিত, প্রেজেন্টেশন ও ওয়ার্কশপ করতে হয়। ফলে অন্য কলেজের চেয়ে এখানে পরীক্ষা বেশি হয়। তবে ইনকোর্সের পূর্ণমান একই থাকে। কোনো ছাত্র বা ছাত্রী ৬০ ভাগের কম ক্লাস করলে তাকে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয় না। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগ আলাদা সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এ পর্যন্ত কলেজে মোট দুই শর বেশি সেমিনার হয়েছে। এসব খরচের পুরো টাকাই বিভাগ উন্নয়ন তহবিল ও কলেজ ফান্ড থেকে দেওয়া হয়।

অধ্যক্ষ জানালেন, ‘কলেজের উন্নয়নের জন্য যেমন কলেজ ফান্ড থেকে টাকা দেওয়া হয়, তেমনই কলেজে আলাদা তহবিল সৃষ্টি করে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া ফি থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। শিক্ষকরাও যথাসাধ্য সাহায্য করেন। ’ কলেজের সৌন্দর্যবর্ধনে অধ্যক্ষ নিজের পকেট থেকে ৩০ হাজার, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আল-ফারুক চৌধুরী ১৫ হাজার ও প্রত্যেক শিক্ষক এক হাজার করে টাকা দিয়েছেন।

সে টাকায়ই পুকুরপাড়ের চারপাশে গাছ লাগানো হয়েছে, পুকুরে রাজহাঁসের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে। পুকুরে ফুটে আছে শত শত শাপলা। পুকুরপাড়ের সিঁড়িতে অবসরে ছাত্র-ছাত্রীরা আড্ডা জমায়। এ ছাড়া তাদের বসার জন্য রবীন্দ্র-নজরুল চত্বর, ফুলার চত্বর, শহীদ মিনার চত্বর, বকুলতলায় গাছের নিচে চত্বর বানানো হয়েছে। বোটানিক্যাল গার্ডেন ও কামারুজ্জামান ভবনেও চত্বর তৈরি করা হয়েছে।

অধ্যক্ষের এসব উদ্যোগ নিয়ে খুশি ছাত্র-ছাত্রীরা। সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী সামিয়া শবনম বললেন, ‘আগে আমাদের কলেজে গরু-ছাগল, ফেরিওয়ালারা যখন-তখন ঢুকে পড়ত। এখন সে উপায় নেই। কলেজসীমানার ভেতরে ফুলার রোডের পেছনে অবৈধ দোকানগুলোও তিনি উঠিয়ে দিয়েছেন। ’ বানেশ্বর থেকে কলেজের বাসে আসা এক ছাত্র নাম না বলে বললেন, ‘আমাদের একটি নিজস্ব ও ১৩টি ভাড়া বাস আছে।

অন্য কলেজের ছেলে-মেয়েরা আমাদের পরিচয়পত্র নকল করে বাসে ওঠে। ’ এ বিষয়ে অধ্যক্ষ জানালেন, ‘এর মধ্যে আমরা দুটি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের ডিজিটাল আইডি কার্ড দিয়েছি। সাত দিনের মধ্যে কলেজের সব ছাত্র-ছাত্রী ডিজিটাল আইডি কার্ড পেয়ে যাবে। তখন অবৈধদের ওঠার সুযোগ থাকবে না। ’

‘রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাস’ নামে মোট ৯টি ভবন আছে। চারটি ছাত্রীনিবাসও আছে। এগুলোর দুটি নতুন। তৈরি শেষ হলে তাতে দুই হাজার ছাত্র থাকতে পারবেন। তবে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ভবনের আবাসিক ছাত্র আরিফুর রহমান বললেন, ‘আমাদের আরো ছাত্রাবাস প্রয়োজন। কারণ এখানে মোট ২৬ হাজার ছেলে-মেয়ে পড়ে। আমাদের সব ভবনে দুপুরের ডাইনিং চালু থাকে না।

এই ভবনের আট ব্লকের মাত্র দুটিতে ডাইনিং আছে। ’ নাম প্রকাশ না করে ছাত্রাবাসটির এক বাসিন্দা বললেন, ‘থাকতে হলে মিছিলে যেতে হবে—এই কথা বলে জোর করে নেতারা আমাদের ধরে নিয়ে যায়। ’ আরেকজন বললেন, ‘খাবারের মান আরো ভালো করতে হবে। ’ ছাত্রীনিবাসের বাসিন্দা ক্যামেলি সুলতানা ও ইশরাত জাহান জানালেন, তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা আছে।

তবে এখনো অনেক ছাত্রীকে সিট না পেয়ে গণরুমে থাকতে হয়। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ জানালেন, ‘দুটি ছাত্রীনিবাস তৈরি হচ্ছে। তখন আবাসন সমস্যা অনেকটাই কমবে। ’ ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে তিনি জানালেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীরা এখন থেকে পুরো দিনের খাবার টোকেনের মাধ্যমে সংগ্রহ করবে। ফলে এই সমস্যাও সমাধান হবে। ’

ছাত্র-ছাত্রীরা যেমন তাদের অভিযোগ জানালেন, তেমনই তাঁদের অধ্যক্ষও সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরলেন—‘শিক্ষার্থীদের তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আরো উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স দিতে হবে। আমাদের শ্রেণিকক্ষ নেই। ফলে একাডেমিক ভবনের জন্য আরো অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।

আমাদের আধুনিক মিলনায়তন, ছাত্রাবাস প্রয়োজন। ’ তিনি জানালেন, ‘মিলনায়তন ভবনের নিচতলার রূপালী ব্যাংকের রাজশাহী কলেজ শাখাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভর্তি, পরীক্ষার ফি ও বেতন পরিশোধ করে। তাদের জন্য রূপালী ব্যাংক একটি এটিএম বুথ চালু করবে বলে কথা দিয়েছে। ’ এই সমস্যাগুলো সঙ্গে নিয়েই ১৪৪ বছরের পুরনো রাজশাহী কলেজ ২০১৫ সালে চালু হওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফরম্যান্স সূচকে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে দেশের সেরা কলেজ হয়েছে।

এবারও তারা সেরা হয়েছে। পেয়েছে ৬১.১৬। এটি দেশের তৃতীয় প্রাচীনতম কলেজ। এখানেই বাংলাদেশের প্রথম মাস্টার্স ডিগ্রি চালু হয়। এ ছাড়া কলেজটি ২০১৩ সালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিকে সেরা কলেজ হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলে দ্বিতীয় হয়েছে। ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সেরা হয়েছে।

কলেজের এত অসাধারণ ফলাফল, চমত্কার পরিবেশ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কিভাবে সৃষ্টি করেছেন—এই প্রশ্নের জবাবে দেশের সেরা কলেজের অধ্যক্ষ বললেন, ‘আমি কলেজ ফান্ড থেকে যে টাকাই শিক্ষকদের দিয়েছি, তাঁরা শতভাগ সততার সঙ্গে খরচ করেছেন। ’

তিনি বলেন, “কলেজে এখন যেসব সুবিধা আছে, সেগুলো ‘কলেজ উন্নয়ন তহবিল’ ও ‘বিভাগ উন্নয়ন ফি’ থেকে করা হয়েছে। প্রতিটি সরকারি কলেজে এই তহবিল দুটি আছে। আমি কাজের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের টাকা তাদেরই ফিরিয়ে দিচ্ছি। ”

Leave a Reply

Your email address will not be published.