রাজশাহী কলেজে মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত কবর নাটক মঞ্চায়িত

রাজশাহী কলেজ বার্তা | | February 20, 2018 at 10:14 pm

দেশের শ্রেষ্ঠবিদ্যাপীঠ রাজশাহী কলজে মঞ্চায়িত হলো মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক “কবর”। মঙ্গলবার সন্ধায় কলেজের প্রশাসন ভবনের সামনে এটি  মঞ্চায়িত হয়। নাটকটি পরিচালনা করেছেন আশীষ কুমার স্যানাল এবং পরিচালনা করেছেন এম. এ মালেক। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী বাঁচা-লড়াইয়ের ফলশ্রুতিই একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জন। এখানেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ব্যাপী মুনীর চৌধুরীর নাটক গুরুত্ববহন করে আসছে। একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই আজও আমাদের ফিরে যেতে হয় ‘কবর’ নাটকের কাছে। হতে হয় একুশের চেতনায় উজ্জীবিত। একুশের প্রেরণায় শিক্ষার্থীদের উজ্জীবিত করতে রাজশাহী কলেজ মঞ্চায়িত করলো মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত “কবর” নাটক।

তৎকালীন পাক হানাদার সরকারের নির্দেশে মিছিলেও গুলি চালায় পুলিশ। ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়, তার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন মুনীর চৌধুরী। পুলিশের বেষ্টনী ভেদ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন এবং গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানান। ভাষা আন্দোলনের সময় বিপুল সংখ্যক ছাত্র-শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। মুনীর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। পাঠানো হয় দিনাজপুর জেলে। দিনাজপুর জেল থেকে একসময় তাকে পাঠানো হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানেই মুক্তিযোদ্ধাদের অনুরোধে তিনি নাটকটি রচনা করেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য নাট্যকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর রহমত আলী এবং অত্র কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আল ফারুক চৌধুরী। রাজশাহী কলেজের ইতিহাসে দ্বিতীয় বারের মতো মঞ্চায়িত হলো মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত কবর নাটক।

মঞ্চায়িত এই বিখ্যাত নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আশীষ কুমার স্যানাল, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম. এ মালেক, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক কামরুজ্জামান সরকার। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিনয় করেছেন ইরতিজার লিখন, জোসী কিবরিয়া, অর্ন রহমান।

নাটকটিতে মুনীর চৌধুরীর জীবনদর্শনের পটভূমিই দৃশ্যকাব্যে রূপায়ণ হয়েছে। এতে উঠে এসেছে মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক রচনার ট্র্যাজেডি। জনমানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা পেয়েছে ‘কবর’ নাটকটি। দৃষ্টি উন্মোচনকারী এই নাট্যকার, প্রাবন্ধিক এবং সাহিত্য সমালোচক ১৯৭১ সালে বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে স্বাধীনতাবিরোধী আলবদর, আলশামসদের হাতে অন্য বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে নির্মমভাবে শহীদ হন। কোথাও তাঁর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস!

একুশের প্রথম নাটক ‘কবর’ যাকে অমর করে রেখেছে, তারই কোন কবর নেই। তবে কি ‘কবর’ মুনীর চৌধুরীর জীবনের প্রতিচ্ছবি? মূলত নাটকীয় মুহূর্ত তৈরির মাধ্যমে মুনীর চৌধুরীর জীবনালেখ্যই প্রতিফলিত হয়েছে এ নাটকে। ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম.এ মালেক এবং সমাজকর্মের প্রভাষক কামরুজ্জামান সরকারের মন্ত্রমুগ্ধ অভিনয় সবার দৃষ্টি কেড়েছে। এছাড়া সংগঠনের অন্যান্য অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণে ছিল প্রাণের ছোঁয়া।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশবরেণ্য অভিনেতা, রাজশাহী কলেজের কৃতী শিক্ষার্থী অধ্যাপক রহমত আলী বলেন, আমার কলেজে এত্ত সুন্দর ভাবে আমার প্রথম অভিনীত নাটক মঞ্চায়িত করা দেখে সত্যি আমি অভিভূত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ রকম আরো দেশপ্রেমের চেতনা যুক্ত এবং শিক্ষণীয় নাটক মঞ্চায়িত করবে” বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অত্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান।

Leave a Reply

Be the First to Comment!

avatar
  Subscribe  
Notify of