স্থায়ী রূপ পাচ্ছে রাজশাহী কলেজ হোষ্টেলে নির্মিত দেশের প্রথম শহীদ মিনার

রাজশাহী কলেজ বার্তা | | June 9, 2018 at 4:51 pm

রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোষ্টেলে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময়  নির্মিত দেশের প্রথম শহীদ মিনারটি অবশেষে স্থায়ী রূপ পাচ্ছে। বলা হয়ে থাকে তৎকালিন কাদা-মাটি ও ইট-সুরকি দিয়ে তৈরী দেশের প্রথম শহীদ মিনার এটি। যদিও জাতীয়ভাবে এখনো তার স্বীকৃতি মিলেনি।

সেই সময় কাদা-মাটির তৈরী এই শহীদ মিনারটি তৈরীর পরপরই ভাষা আন্দোলনের বিরোধীরা তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। ভাষা আন্দেলনের ৬৬ বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও সেখানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের কোন উদ্যোগ কেউ গ্রহণ করেনি। অবশেষে সেই কাজটিই করছেন রাজশাহী সদর আসসের সংসদ সদস্য জননেতা ফজলে হোসেন বাদশা।

সুদৃশ্য এই শহীদ মিনারটির উচ্চতা হবে মাটি থেকে ৫৫ ফিট। এতে থাকবে তিনটি পিলার। বড় পিলারটির উচ্চতা হবে ৫৫ ফিট। এটি হবে সিলভার কালারের। মধ্যম ও ছোট পিলারের উচ্চতা হবে যথাক্রমে ৪০ ফিট ও ৩০ ফিট। মধ্যম ও ছোট পিলার ২টি পোড়ামাটির রঙে হবে। শহীদ মিনারে বেদীতে উতিহাস ও ঐতিহ্য লিপিবদ্ধ থাকবে।

রাজশাহী সদর আসসের সংসদ সদস্য জননেতা ফজলে হোসেন বাদশার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং নিজস্ব প্রকল্প ও নিজস্ব তহবিল থেকে এই শহীদ মিনারটি নির্মান করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, চলতি মাসের শেষ নাগাদ এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে আগামী ৩ মাসের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।

সদর আসনের সংসদ সদস্য জননেতা ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রাজশাহী নগরীর জন্য আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৬ টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে ব্যয় হবে ৭ কোটি টাকা। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহী কলেজ হোষ্টেলে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় নির্মিত শহীদ মিনার নির্মিত হচ্ছে। এতোদিন এই উদ্যোগটি কেউ নেয়নি। এটি আরো অনেক আগে হওয়া উচিত ছিল। এটি আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম দলিল হিসেবে পরিগণিত হবে।

কেননা মহান ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আমাদের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ নামের একটি দেশ বিশ্বে মানচিত্রে স্থান করে নেয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হলে মহান ভাষা আন্দেলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এটি দেশ বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান জানান, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় ভাষা শহীদদের স্বরণে দেশে প্রথম যে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয় সেটি রাজশাহী কলেজেই। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি বিষয়। অবশেষে শহীদ মিনারটি স্থায়ী রূপ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম দেশকে নতুন করে ভালবাসতে শিখবে। যদিও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এখনও মিলেনি তবে সরকার শীঘ্রই এটিকে দেশের প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে স্বীকৃতি দিবে বলে আশাবাদী তিনি। এই মহৎ কাজের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

Leave a Reply

Be the First to Comment!

avatar
  Subscribe  
Notify of