ফুলের নাম পাখি – প্রথম আলো

0
236

গত ০২ মার্চ দেশের অন্যতম প্রধান দৈনিক প্রথম আলো রাজশাহী কলেজ এর ফুল নিয়ে একটি প্রতিবেদন করে। প্রতিবেদনটি এখানে প্রকাশ করা হলো।

“চিরহরিৎ এক বৃক্ষ। ১২ থেকে ১৫ ফুট উঁচু। ঘন সবুজ পাতায় ঘেরা। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ফুলগাছ। নিচে গিয়ে দাঁড়ালে দেখা যাবে পাতার ভেতরে আগুনের মতো টকটকে লাল ফুল বাদুড়ের মতো ঝুলে আছে। ফুল সাধারণত ওপরের দিকে মুখ করে ফুটে থাকে। এই ফুল তার ব্যতিক্রম।

আয়তনে প্রায় সূর্যমুখীর কাছাকাছি। পাতার ভেতরে গোপনে ফুটে থাকা এই ফুল বাংলাদেশে ‘পাখি ফুল’ নামে পরিচিত। রাজশাহী কলেজের প্রশাসনিক ভবনের পশ্চিম পাশে রয়েছে পাখি ফুলের একটি গাছ। ফুল ফুটেছে।

বাংলাদেশে এই ফুলকে বিলাতি অশোকও বলা হয়। একেক দেশে এই গাছ একেক নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম brwnea coccinea. এর মাতৃদেশ লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ (west Indian Islands)। বিদেশি হলেও ইদানীং বাংলাদেশের কোথাও কোথাও দেখা যায়।

অসম্ভব সুন্দর এই ফুলের কোনো গন্ধ নেই। কুঁড়ি অবস্থায় কদম ফুলের গুটির মতো আকার ধারণ করে থাকে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে গুটি ফেটে রক্তজবা ফুলের মতো পৃথক ৩০ থেকে ৩৫টি কলি বেরিয়ে আসে। কিছুদিন পরে কলিগুলো একসঙ্গে ফেটে পাপড়ি বেরিয়ে আসে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী কলেজে গেলে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক হালিমা খাতুন এই গাছের প্রসঙ্গ তুললেন। কাছে গিয়ে দেখা গেল, গাছের গায়ে একটি নামফলক লাগানো রয়েছে। তাতে বাংলায় ফুলের নাম ও ইংরেজিতে এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম লেখা রয়েছে। গাছটির নিচে গিয়ে দেখা যায়, পাতার ফাঁকে একটি ফুল সম্পূর্ণ ফুটে আছে। আর দুটি ফুল অর্ধ ফুটন্ত অবস্থায় রয়েছে। কুঁড়ি অবস্থায় রয়েছে আরও কয়েকটি।

হালিমা খাতুন রাজশাহী কলেজের ছাত্রী ছিলেন। পরে তিনি শিক্ষক হয়েছেন। তিনি বলেন, পাখি ফুলের গাছ খুব ধীরে বাড়ে। এই গাছটির বয়সও বেশ হয়েছে, কিন্তু কলেজে পড়ার সময় তিনি খেয়াল করেননি যে এটি একটি ফুলের গাছ। তিনি বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে এই গাছে ফুল দেখা যায়। ফুল থেকে বীজ হয় কিন্তু বীজ থেকে কোনো গাছ হয় না। সম্ভবত টিস্যু কালচারের মাধ্যমে গাছ চারা তৈরি করা হয়। এটা চিরহরিৎ বৃক্ষ। একসঙ্গে সব পাতা কখনোই ঝরে যায় না। এ জন্য গাছ সব সময় সবুজ থাকে।

কলেজের শিক্ষার্থী পার্থ ঘোষ বলেন, পাতার আড়ালে এত বড় ও সুন্দর ফুল ফুটে আছে এটা তাঁরা ভাবতেই পারছেন না। গাছের পাশ দিয়ে তাঁরা সারা দিনই হেঁটে বেড়ান কিন্তু ফুল চোখে পড়ে না। গাছের নিচে না এলে বোঝা যেত না। ফুল সাধারণত ওপরের দিকে মুখ করে ফোটে। কিন্তু এই ফুল ফুটে নিচের দিকে মুখ করে ঝুলে আছে।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, গাছটি অনেক পুরোনো। কেউ নাম বলতে পারে না। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে এসে গাছটি শনাক্ত করে গাছের গায়ে নামফলকটি লাগিয়ে দিয়েছেন।

প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন জানালেন, নাটোরের িদঘাপতিয়া রাজবাড়িতে সবচেয়ে পুরোনো দুটি পাখি ফুলগাছ রয়েছে। এ ছাড়া মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরে, ঢাকার শিশু একাডেমীর বাগানে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের পাশে একটি করে পাখি ফুলের গাছ আছে।”

-০২ মার্চ ২০১৬ তারিখে প্রথম আলোতে প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here