রাজশাহী কলেজ যেন ছোট্ট ‘ফুল বাগান’

0
276

এশিয়া মহাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ রাজশাহী কলেজ। কলেজ পর্যায়ে র‌্যাংকিংয়ে প্রথম হয়ে হ্যাট্রিক করা একমাত্র এই কলেজটি শুধু পড়াশোনার জন্যই পরিচিত নয়, এই কলেজে রয়েছে শিক্ষাগ্রহণ উপযোগী সুন্দর মনোরম পরিবেশ। রয়েছে বিভিন্ন রকমের ফুলের বাগান।

আর এসব বাগানের দেখভাল করেন স্বয়ং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান। তিনি নিজ উদ্যোগে কলেজের পরিত্যক্ত জায়গাগুলো ফুল চাষের উপযোগী করে সেখানে ফুল চাষ করে চলেছেন। কর্মচারীদের পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যা দেখভাল করে গড়ে তুলেছেন এসব ফুল বাগান। শীতের সময় কলেজের ভেতরে এমন সব সুন্দর সুন্দর ফুল দেখে মুগ্ধ কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা ক্লাশের অবসরে সে সব ফুল বাগানে গিয়ে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। বাগানের ফুলগুলোকে স্মরনীয় করে স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে শিক্ষার্থীরা তুলছেন গ্রুপ ছবি, আবার কেউবা তুলছেন সেলফি।

উপভোগ করতে আশা শিক্ষার্থীরা বলেন, এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করার সুযোগ পেয়ে আমরা গর্ববোধ করি। এর আগে আমরা যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করেছি সেখানে এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ পাইনি। এখানকার শিক্ষকরা অত্যন্ত আন্তরিক। এখন আমরা কলেজে ঢুকলেই দেখতে পাই সুন্দর পরিবেশ। ক্যাম্পাসের ভেতরে যেখানে সেখানে কোন রকম ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকে না। এজন্য আমাদের খুব ভালো লাগে।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রুকাইয়া মীম বলেন, আমাদের কলেজ যেমন দেশ সেরা, ক্যাম্পাসও ঠিক তেমনি দেশ সেরা। চারিদিকে সবুজ আর সবুজ। অবসর সময় গুলো বাইরে কোথাও না গিয়ে বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসেই আড্ডা দেই। কারন বাইরে কোথায় যাবো? বাইরের থেকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ বেশি সুন্দর। অনেকটা ছোট্ট ফুল বাগানের মত।

রাজশাহী কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান বলেন, বর্তমানে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার মান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু শিক্ষার দিক থেকেই এগিয়ে নেই রাজশাহী কলেজ। যেমন শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে আছে ঠিক তেমনই সৌন্দর্যের দিক থেকেও এগিয়ে। বিভিন্ন স্থান থেকে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা এখানে আসছে। এখানে এসে কলেজের সৌন্দর্যের ছবি তুলছে। এতে আমাদের গর্ববোধ হয়।

অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম শর্ত হল গ্রীন ও ক্লিন হওয়া। একটি ক্যাম্পাস হবে আবর্জনামুক্ত। ক্যাম্পাসে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে একজন শিক্ষার্থী সেখানে আনন্দ খুজে পায়। যেমনটি ক্লাস রুমের ভেতরে, ঠিক তেমনটি হবে ক্লাস রুমের বাইরে। একটি প্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষার্থীকে আকর্ষিত করতে না পারে তাহলে একজন শিক্ষার্থীর সেখানে মন বসবে না। শিক্ষার্থী যখন দেখবে যে পরিবেশটি আমার জন্য সুখকর, আমার পড়ার জন্য এটা পরিবেশ বান্ধব তখন সে এটাকে ভালোবাসতে শিখবে।

বর্তমান সরকার এ বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশকে যেমন ২০২১ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকে এবং পরিস্কারের দিক থেকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। এজন্য সিটি কর্পোরেশনসহ আরো অন্যান্য সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। সেহেতু আমারও তাগিদ যে আমার প্রতিষ্ঠানকে পরিস্কার পরিছন্ন রাখা, শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে একটি নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করা।

তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন ক্লাস রুমের দিকে নজর দিয়েছি, সেইসাথে ভৌত অবকাঠামো, গাছপালা, ফুলের গাছসহ বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ক্যাম্পাসকে আমরা সুসজ্জিত করেছি। এই পরিবেশ যেন অনুকরণ হয় অনুসরণ হয়। আমাদের দেখাদেখি অন্যান্য কলেজও যেন ক্লীন ও গ্রীন কলেজে পরিণত হয় এটাই আমার চাওয়া। আমি নিজেই কলেজের একজন বড় মালি। আমি সকাল সন্ধ্যা এসকল গাছের পরিচর্যা করে থাকি। আর এই সুন্দর পরিবেশ যখন সবাই উপোভোগ করে তখন আনন্দে আমার মন ভরে ওঠে এবং এই আনন্দ নিয়েই আমি বেঁচে আছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here