জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে ডুসার্কের সম্মাননা প্রদান

2
194
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে ডুসার্কের সম্মাননা প্রদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এ্যাসোসিয়েশন অব রাজশাহী কলেজ (ডুসার্ক) ঢাবির টি এস সি তে রাজশাহী কলেজকে সম্মাননা জানিয়েছে। রাজশাহী কলেজের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ অধ্যাপক হবিবুর রহমান সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

শুক্রবার ঢাবির টি এস সি যেন পরিণত হয়েছিল রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায়। সকলে দেশ সেরা কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রাণ প্রিয় শিক্ষক কে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। কারও সাথে তার ২ বছর পরে আবার কারও সাথে ৩ বছর পরে দেখা।

১৪ মে ২০১৬ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অধিভূক্ত কলেজ গুলোর র‍্যাংকিং এর ফল ঘোষনা করে। ৩১ টি সূচকের ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৬৮৫ টি অনার্স, মাষ্টার্স কলেজে ২০১৫ সালের জন্য স্কোরের ভিত্তিতে র‍্যাংকিং এ জাতীয় পর্যায়ে সেরা ৫ টি কলেজের মধ্যে প্রথম হয়েছে রাজশাহী কলেজ। শুক্রবার অধ্যপক হবিবুর রহমান জাতীয় জাদুঘরে শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে শ্রেষ্ঠত্বের পুরষ্কার গ্রহন করেন। রাজশাহী কলেজ শুধু সারা দেশের মধ্যেই সেরা কলেজই হয়েছে তা নয়। রাজশাহী বিভাগ ও জেলার মধ্যেও শ্রেষ্ঠ কলজের মর্যাদা পেয়েছে।

নিজেদের প্রাণ প্রিয় কলেজের অধ্যক্ষকে কাছে পেয়ে সুযোগ হাতছাড়া হতে দেন নি ঢাবি’তে অধ্যয়নরত কোন একটি কলেজের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সংগঠনের সদস্যরা। দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের এই সংগঠন এর জন্ম ২০১৪ সালে। আর্থিক কোন প্রণোদনা ছাড়াই সদস্যদের নিজেদের চেষ্টায় সংগঠন এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ, একসাথে পহেলা বৈশাখ উজ্জাপন, রমজানে ইফতার পার্টি সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেই যাচ্ছে।

অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, “প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই কলেজ প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পায়। রাজশাহী কলেজ সব সময় যুগোপযোগী শিক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছে”।

তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উপমহাদেশের প্রথিতযশা ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে। তাদের মধ্যে ড. ওয়াজেদ মিয়া, ঋত্বিক ঘটক, ড. এনামুল হক সহ অনেকেই।

তিনি আরও বলেন, “রাজশাহী কলেজ কোন ইতিহাস সৃষ্টি করতে না পারলেও, তার ঐতিহ্য ও ইতিহাস তা একই সমান্তরালে বহমান। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমরা এগিয়ে গেলেও, প্রথিতযশা দের অবস্থানে পৌঁছতে পারি নি। আমাদের শিক্ষকবৃন্দ রাজশাহী কলেজ কে একটি মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এই কলেজ ও এর শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মত ভালবাসে”।

ডুসার্কের আয়োজনে অভিভূত হয়ে ডুসার্কে আর্থিক সহায়তা করার কথা ঘোষণা দিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, “ আজ এই সংগঠন আমাকে যেভাবে সম্মানিত করল, আমি চাই এই সংগঠনটি টিকে থাকুক। তোমরা ছাত্র, আমি তোমাদের এই সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার জন্য এককালীন কিছু অর্থ ব্যক্তিগতভাবে দিচ্ছি। এবং এর পরিমান হবে ত্রিশ হাজার টাকা”।

অধ্যক্ষ সংগঠনের সাফল্য কামনা করেন ও অনুষ্ঠান আয়োজনে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে সাধুবাদ জানান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যপক ওলিউর রহমান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাইফুর রহমান।

ডুসার্ক সভাপতি শাহ্‌রিয়ার সাগর বলেন, “ ডুসার্ক আমাদের একটি ভালবাসার সংগঠন। আমরা এই সংগঠনের তরফ থেকে দেশ সেরা কলেজ ও রাজশাহী কলেজের অভিভাবককে সম্মান জানাতে গর্ব বোধ করছি। আমার আশা রাজশাহী কলেজ একদিন একখণ্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। নিতাই স্যার, সাঈদ স্যার, পুলক স্যার আমাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন এবং দিক নির্দেশনা দেন।”

সাধারণ সম্পাদক ফাহিম রেজা শোভন বলেন, “ডুসার্ক” একটি স্বপ্নের নাম। এই স্বপ্ন পূরণে রাজশাহী কলেজের ভূমিকা মূখ্য। আমরা রাজশাহী কলেজে গিয়ে আমাদের ছোট ভাইবোন দের উৎসাহিত করতে আগ্রহী। আর রাজশাহী কলেজ মানেই হবিবুর স্যার। হবিবুর স্যার মানেই রাজশাহী কলেজ। রাজশাহী কলেজের আজকের এই অবস্থানের মূল ভূমিকা পালন করেছেন অধ্যক্ষ হবিবুর স্যার ও তার দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো। সকল শিক্ষক তাকে যেভাবে সহযোগিতা করে তাতে বলার অপেক্ষা রাখে না এই কলেজের নাম একদিন রাজউক কলেজের নামের জায়গায় থাকবে।”

এছাড়াও ডুসার্কের ফেইসবুক গ্রুপে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় যেখানে সদস্যরা এক বাক্যে রাজশাহী কলেজ কে বর্ণনা করেছেন। অনেক গুলো বাক্যের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয়েছে যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাসনিম উপমার বাক্যটি। সেটি ছিল “What Rajshahi College thinks today, Bangladesh thinks tomorrow.”

টি এস সি তে নব গঠিত কমিটির সভাপতি শাহ্‌রিয়ার সাগর ও সাধারণ সম্পাদক ফাহিম রেজা শোভন এর নেতৃত্বে অধ্যক্ষ কে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ডুসার্ক পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সবুজ আলম, রোকনুজ্জামান সজল, সাবেক সভাপতি তবিবুর রহমান, বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি আরিক আহসান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন ও মেরাজ শরীফ, সাংগঠনিক সম্পাদক হোজাইফা রশিদ , দপ্তর সম্পাদক মোঃ মাহমুদুল হাসান আরিফ, গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক খালিদ মাহ্‌মুদ রবি সহ অনেকেই।

উল্লেখ্য, ডুসার্কের ৪টি ব্যাচের শিক্ষার্থী নিয়ে মোট সদস্য সংখ্যা ১৫০ জনের ঊর্ধ্বে। এটি ঢাবিতে অবস্থানকারী কোন স্থানীয় কলেজের সব থেকে বড় সংগঠন। রাজশাহী কলেজ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফলাফলের ভিত্তিতে বিগত ২ বছর রাজশাহী বোর্ডে ১ম ও সারা বাংলাদেশে ৪র্থ স্থান অর্জন করেছে। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাবির গ ইউনিটে ১ম স্থান অর্জনকারী রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী অমিত আহসান।

-২১ মে ২০১৬ / রাজশাহী কলেজ বার্তা / ফাহিম রেজা শোভন

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here