রাজশাহী কলেজে নৈতিকতা শিক্ষায় মনীষীদের বাণী

0
240

রাজশাহী কলেজের মূল ফটক পেরোলেই প্রশাসন ভবন। ভবনের সামনে বিভিন্ন পয়েন্টে চোখে পড়বে ছোট ছোট বিলবোর্ড। প্রশাসন ভবনের দুই পাশ দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের রাস্তা। রাস্তা ধরে সামনে এগোতে থাকলে এরকম আরো অনেক বিলবোর্ড। এছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বরেও বসানো হয়েছে ছোট ছোট বিলবোর্ড। প্রশ্ন জাগে, কিসের বিলবোর্ড? সে কথাতেই আসছি- এই বিলবোর্ডগুলোতে রয়েছে বিশ্ববরেণ্য বিভিন্ন মনীষী ও ব্যক্তিদের শিক্ষণীয় বাণী।

এগুলো দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটবে। যা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবিক গুনসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেদেরকে গড়তে পারবে- এমন উদ্দেশ্যেই কলেজ প্রশাসন এই বিলবোর্ডগুলো স্থাপন করেছে।

চমৎকার ও শিক্ষণীয় অনেক বাণী সাটানো রয়েছে এই বোর্ডগুলোতে। রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘মানুষকে ভালবাসলে মানুষও ভালবাসে, যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবনও দিতে পারে’ সম্বলিত বোর্ড।

নেলসন ম্যান্ডেলার- ‘শিক্ষা হলো সবচেয়ে বড় অস্ত্র যা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে’, পন্ডিত চাণক্য’র ‘বিদ্বান এবং রাজা কখনই সমান নয়, কেননা রাজা স্বদেশে পূজ্য আর বিদ্বান সর্বত্র পূজ্য। বিদ্বান এর সহিত রাজার কোন তুলনা চলে না, বিজ্ঞানী শ্রেয় এবং শ্রেষ্ঠ’, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মনুষ্যত্বের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা আর সমস্তই তার অধীন’, ইংরেজি সাহিত্যিক শেলীর ‘আমরা যতই অধ্যয়ন করি, ততই আমাদের অজ্ঞানতাকে আবিষ্কার করি’ উক্তিগুলো লেখা রয়েছে বোর্ডগুলোতে। এছাড়াও ‘নেশা জাতীয় যে কোনো দ্রব্যই মাদক, আর যাবতীয় মাদকই হারাম’- এরকম হাদিস সম্বলিত বোর্ডও চোখে পড়ে।

মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই বিলবোর্ডগুলো প্রদর্শনের মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত এই বিষয়গুলোকে অনুধাবন করতে পারি। এর ইতিবাচক ভাবনায় প্রভাবিত হয়ে আমাদের জীবন গড়ে তুলতে পারি।

বাংলা তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নওশাদ শেখ বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই যেন রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস তৈরী করা হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে আমরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেখতে পাই, বিভিন্ন মনিষীদের বিখ্যাত উক্তিগুলো। যা থেকে একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে চলার মাঝেও শিক্ষা লাভ করতে পারে। আর এসব কারণেই রাজশাহী কলেজ আজ বাংলাদেশের সেরা কলেজ।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, পোস্টার ব্যবহারের ফলে দেওয়ালগুলো নষ্ট হয়, তাই বিলবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা যেসকল বাণী ও মানবিক উক্তি দিয়েছি, তা শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত দেখছে। এসকল কথার দ্বারা তাদের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এগুলো দেখার ফলে তাদের মনে অবশ্যই এক ধরনের পরিবর্তন আসবে। আর তা থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণ করলেই এই সৃজনশীল উদ্যোগটি সফল হবে বলে মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ।

তিনি আরো বলেন, আরও কিছু দৃশ্যমান বিলবোর্ড স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। যা প্রতিটি বিভাগের সামনে স্থাপন করা হবে। বিভাগের নিজস্ব ইতিকথা দ্বারা সাজানো হবে সেগুলো। যেমন- দর্শন বিভাগের ক্ষেত্রে দার্শনিকদের বিভিন্ন কথা মানবিক উক্তি, রসায়ন বিভাগের সামনে দেওয়া হবে বিজ্ঞানীদের নোবেল পাওয়ার ক্ষেত্রসমূহ। এছাড়াও বৈজ্ঞানিক চিন্তা ধারা উপস্থাপন করা হবে। এভাবে বিভিন্ন বিভাগের সামনে শিক্ষামূলক স্থাপনা তৈরী করা হবে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here