‘আইয়ুবখানমুর্দাবাদ স্লোগান দিয়েছিলাম’

0
88

‘১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান এসেছিলেন রাজশাহী কলেজে। তাকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিইনি। আইয়ুব খানমুর্দাবাদ বলে স্লোগান দিয়েছিলাম। আমরা বিরোধী দলীয় ছাত্রনেতা ছিলাম। সে সময় টিয়ারশেল কি বুঝতামনা। পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ল। আমরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে গেলাম। কাউকে ধরে নিয়ে গেল। টিয়ারশেলের কারনে তাকাতে পারছিলামনা। লোকজন বলল, চোখে পানি দাও।’- রাজশাহী কলেজে অনুষ্ঠিত প্রথম এইচএসসি অ্যালামনাই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে এভাবেই স্মৃতি রোমš’ন করছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণকারী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী নওগাঁ হরের চক মুক্তারে’র বাসিন্দা। তিনি ১৯৫৮ সালে রাজশাহী কলেজে কলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬০ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৯৯ সালে জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার থাকাকালীন কর্মজীবন থেকে অবসরগ্রহণ করেন। তাঁর কানাডা প্রবাসী ছেলে সাইদ হাসান চৌধুরী ও পুত্রবধূ ফারহানা সাবরিনা চৌধুরীও এই কলেজেরই শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের সাথে এসেছেন অ্যালামনাই পুনর্মিলনীতে।

এত বছর পর এসে ক্যাম্পাসের পরিবেশ, ঐতিহ্যের সংরক্ষণ আর সৌন্দর্য দেখে অবাক হয়েছেন তিনি।ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বিষয়ে জিজ্ঞেসকরায় উত্তর দিয়েছেন, ‘আল্ট্রামডার্ণ, অতি সুন্দর’শব্দগুলোর মাধ্যমে। বহুবছর পরে এখানে এসে তাঁর হৃদয়ে জেগে উঠেছে ক্লাসরুম ও ক্লাসের বাইরের হাজারো স্মৃতি! গল্পে গল্পে জানাচ্ছিলেন তখনকার দিনেরকথা।

সেই সময়টা শিক্ষকরা খুবই স্ট্রিক্ট ছিলেন, বিভিন্ন নিয়ম-কানুন কড়াকড়ি ভাবে মেনেচলতে হতো এমনটা উল্লেখ করে এই প্রবীণ অ্যালামনাস বলেন, স্যাররা এতটাই স্ট্রিক্ট ছিলেন যে, গগলস পরা যেতনা। গগলসপরলে ডেকে বলতেন, ‘এখন তো রোদ নেই, হোয়াই আর ইউ ওয়ারিং গগলস?’

ক্লাসে পড়াধরার রেওয়াজ ছিল বলে জানান তিনি। শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ক্লাসে স্যাররা পড়া ধরতেন। পড়া না পারলে স্যাররা চেঁচিয়ে উঠতেন, ‘স্ট্যান্ড আপ’।

আমাদের সময় প্রিন্সিপাল ছিলেন প্রফেসর আব্দুল হাই। প্রিন্সিপাল এর অফিসে ঢোকা যেতনা। ঢুকতে হলে পারমিশন নিতে হতো। প্রশ্ন আসতো-‘হোয়াট ইজ ইয়োর পারপাজ অব ভিজিট? যথাযথ কারণ চিরকুটে লিখে পাঠাতে হতো। ওয়েট করতে হতো হাফঅ্যান আওয়ার।

দারুণ কড়াকড়ি নিয়মছিল উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি একটি ঘটনার অবতরণা করেন। রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী বলেন, ১৯৫৯ সাল তখন আমাদের ক্লাস পরীক্ষা চলছিল। আমাদের ফিলোসফির প্রফেসর এম এ তৈয়ব স্যার খুব কড়া ছিলেন। নকল তো জানিনা শুধু পাশে একটু মাথাঘুরিয়ে তাকিয়েছিলাম। এতেই স্যার আমার খাতা কেড়ে নেন। আমি বললাম, স্যার আপনি আমদের পরিচিত। আমাদের সাথে চাখান। এ কথাবলতেই স্যার অগ্নিমূর্তি ধারণ করলেন।

স্যাররা বকাদিলে লজ্জা পেতেন জানান তিনি। কারণ ক্লাসে মেয়েদের উপস্থিতি। শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানালেন, সেই সময়ছাত্রীদের পড়া লেখাকরা দুষ্কর ও প্রতিবন্ধকতা ছিল। তারপরেও উনার ক্লাসে ৫ জন ছাত্রী ছিলেন। এজন্য স্যাররা বকাদিলে খুব লজ্জা পেতেন তারা। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাচে ৫ জন মেয়ে ছিল। এতে আরো লজ্জা পেতাম।

স্মৃতি রোমš’ন করে শহিদুল চৌধুরী বলেন, আমাদের সময় রাজশাহী কলেজে চান্সপাওয়া কঠিন ছিল। কলেজের নিয়মও কঠোর ছিল। কলেজে কেউ সাইকেল নিয়ে ঢুকতে পারতোনা। কলেজ ক্যাম্পাসে আড্ডার তেমন সুযোগ ছিলনা। ক্যাম্পাসের কোথাও বসে থাকলে ঝাঁড়ি খেতে হতো। আমি মানবিকের ছাত্র ছিলাম। আমার রোল নম্বর ছিল ১১১। শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর ব্যাচের অর্থাৎ ১৯৬০ সালের ব্যাচের ১২ জন অ্যালামনাস এই পুনর্মিলনীতে এসেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here